নগরীতে আইন মেনে নির্মিত ভবনে বিসিসি’র নোটিশ, জনমনে বিভ্রান্তি
ফেব্রুয়ারি ০৭ ২০২৬, ২০:৩৭
স্টাফ রিপোর্টার : ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ না হওয়া ভবন মালিকের বিরুদ্ধে নোটিশ দেয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তারা বলছেন, সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের বিধি অনুযায়ী নির্মাণ করা ভবনের বিরুদ্ধে এমন নোটিশ অগ্রহণযোগ্য। জানা গেছে, গত ২১ নভেম্বর সারাদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। এতে নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের আমিনুল ইসলাম জহিরের ভবনের কোন ক্ষতি হয়নি। তবে প্বার্শবর্তি মোতালেব হাওলাদারের অপরিকল্পিত ভবনটি হেলে পড়ে। এ নিয়ে হৈচৈ পরে যায়। এরই মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন তদন্ত করে আমিনুল ইসলাম জহিরের ভবনের সেটব্যাক ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তোলপাড়। যে ভবনটি সিটি করপোরেশনের প্লান নিয়ে সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছে এবং ভূমিকম্পে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, সেই ভবনের বিরুদ্ধে এমন নোটিশ যা অগ্রহণযোগ্য।
১৪ ডিসেম্বর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) দেয়া নোটিশের জবাব দেন আমিনুল ইসলাম জহিরের পক্ষে কবির আহম্মদ। গত ২৪ জানুয়ারী দেয়া জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর ২১ নভেম্বর সকাল ১০:৪০ মিনিটে রেকটার স্কেল ৫.৭ মাত্রায় সংঘটিত ভূমিকম্প হয়। উক্ত ভূমিকম্পে তাদের নির্মাণাধীন ভবনটি কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই। তারা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আইনানুযায়ী প্লান নং ৪৩১/ পিডাব্লিউ, তারিখ ১৮/০৭/২০২৩ এর প্লান অনুযায়ী নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করি। গত ১৪/১২/২০২৫ তারিখ ভবন মালিক আমিনুল ইসলাম জহিরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ নোটিশ প্রদান করা হয় তাহাতে দেখা যায়, অনুমোদিত নকশায় বর্নিত সেটব্যাক না রেখেই ইমারত নির্মাণ করার কথা উল্লেখ করা হয়। আমিনুল ইসলাম জহির দেশের বাইরে থাকার কারণে যাহা নির্মাণ সম্পর্কে পুরোপরি জ্ঞাত ছিলেন না। তার নির্মাণকৃত স্থাপনার নিচতলায় যথাযথ নিয়ম মেনে সেটব্যাক রেখে নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করেন। দোতালা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত সম্মুখ অংশে/উত্তর পাশে ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি, পিছনের অংশে/দক্ষিন পাশে ২ ফুট ২ইঞ্চি, পূর্ব পাশে ৩ ফুট, পশ্চিম পাশে ২ ফুট ১০ ইঞ্চি সেটব্যাক রেখে স্থাপনা নির্মাণ করেন। তার নির্মানকৃত ভবনের জমির সীমানা প্রাচীর/বাউন্ডারী ওয়াল রয়েছে।
তার ভবনের দক্ষিণ পাশে মোতালেবে হাওলাদারের নির্মাণকৃত স্থাপনার একাংশ (পূর্ব উত্তর) কর্ণার দোতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত জহিরের জমির মধ্যে অবস্থান করছে। যা সরেজমিনে তাকালেই স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও বরিশাল শহরে অধিকাংশ অনুমোদিত প্লানের নির্মাণকৃত স্থাপনার সেটব্যাক না রেখেই নির্মাণ কাজ সম্পূর্ন করে। সেই তুলনায় জহিরের নির্মাণকৃত স্থাপনা তুলনামুলক সিটি নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।
ব্যাখার বিষয়টি সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, তদন্ত কমিটি আহবায়ক সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব, তদন্ত কমিটির সদস্য গণপূর্তের সহকারী প্রকৌশলী ফাগিম আহমেদ, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার, সিটি করপোরেশনের স্থপতি মো. সাইদুর রহমান ও সম্পত্তি কর্মকর্তা মো মাহবুবুর রহমানকে অবহিত করা হয়েছে।তিনি (কবির আহম্মদ) অভিযোগের দায়মুক্ত করার জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করেছেন।
এ বিষয়ে বিসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির সদস্য মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন, জননিরাপত্তাই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। সে কারণেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, হেলে পড়া ভবনের ক্ষেত্রে বুয়েট, চুয়েট অথবা কুয়েট থেকে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দিয়ে নকশা ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভবন খালি রাখার নির্দেশ বহাল থাকবে।









































