নিজের ফাঁদেই ধরা হানিট্রাফ চক্রের নারীসহ দুই সদস্য

ডিসেম্বর ০৬ ২০২৫, ২২:৪৫

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল নগরীতে একের পর এক তরুণ-যুবকদের টার্গেট করে হানিট্রাফের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের দুই সদস্য অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও নজরদারির পর শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর ভাটিখানা এলাকা থেকে তাদের আটক করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)।
আটক দুইজন হলেন—উজিরপুর উপজেলার নয়কান্দি গ্রামের নিয়াজ বিশ্বাসের স্ত্রী নিশি আক্তার (১৯) এবং নগরীর নিউ ভাটিখানা এলাকার নোহান ইসলাম রিমন (২০)। রিমন নিজেকে ‘অনুসন্ধান বিডি টোয়েন্টিফোর’ ও ‘ডেইলি বরিশাল সংবাদ’ নামের দুটি অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক পরিচয় দিতেন। এসময় তার কাছ থেকে একটি মাইক্রোফোন (বুম) ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে নগরীর এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হানিট্রাফের মাধ্যমে ৫২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় আবেদন করলে পুলিশ অভিযানে নামে।
নিউ ভাটিখানার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া তানিয়া আক্তার জানান, গত তিন মাস ধরে বাড়িটিতে নিয়মিত অচেনা নারী-পুরুষের যাতায়াত ছিল। হানিট্রাফ চক্রের সরাসরি ধরা পড়ার ঘটনাই প্রথম হলেও ঘটনার পর বাড়ির মালিক রুনা ও তার স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক নিশি আক্তার জানান, তাদের চক্রের মূল হোতা নীলা পাখি নামের এক তরুণী। তার সঙ্গে কাজ করেন বৃষ্টি, সামিয়া, সাতরাজ, সার্জিস, শাহিনসহ আরও কয়েকজন। এর মধ্যে কয়েকজন নিজেকে অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন।
নিশি বলেন, “বৃষ্টি আমাকে ওই যুবকের নম্বর দেয়। সৃষ্টি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে সুযোগ বুঝে রুমে ডেকে এনে ভিডিও ধারণ করে টাকা নেওয়া হয়।” তিনি আরও জানান, চার হাজার টাকার চাকরি ছেড়ে বৃষ্টির মাধ্যমে তিনি এই চক্রে যুক্ত হন।
স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ নাসিম বলেন,
“চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছিল। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় আমরা তাদের ধরতে সক্ষম হয়েছি। ভুক্তভোগী একজন যুবক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। বাকি সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।”
বরিশাল নগরীতে সক্রিয় এই হানিট্রাফ চক্রের ধরপাকড়ের পর স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করলেও চক্রের মূল হোতা ও অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।