স্বৈরাচারী পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা করছে সরকার- জামায়াত নায়েবে আমির

আগস্ট ১৪ ২০২৬, ২২:০২

স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমান সরকার গণভোটে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে স্বৈরাচারি পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা করছে, এভাবে যদি জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়- জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তার সকল নেতাকর্মী নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তুলবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।
১৪ আগস্ট শুক্রবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পুরন করতে পারছে না, জনগণ দিন দিন ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে কাজ করতে দিচ্ছেনা, বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যেদের এলাকার উন্নয়ন মুলক কাজ থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে অসংখ্য মানুষের জীবন দানের পরেও সরকার বৈষম্য নিরসন না করে বৈষম্য বৃদ্ধি করছে।
মেধার পরিবর্তে আবার নতুন পদ্ধতি তৈরি করে শিক্ষক নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কমিটির হাতে দেয়ার পায়তারা করছে, যার মাধ্যমে দূর্নীতি বৃদ্ধি পাবে এবং মেধাবীরা অবমূল্যায়িত হবে যেটা অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের জনগণ কোন ভাবেই মেনে নিবেনা।
তিনি আরও বলেন, দুনিয়ায় জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত এই জীবনকে কাজে লাগিয়ে পরকালীন জীবনের জন্য কাজ করতে হবে। জ্ঞান অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে, রুকনদের বেশি বেশি কুরআন অধ্যয়ন করা দরকার। পারিবারিক জীবনে পরিশুদ্ধতার জন্য পরিবারের দিকে বিশেষ নজরদারি করতে হবে। হিম্মত নিয়ে আন্দোলনের কাজে ভুমিকা পালন করতে হবে, সাহস নিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ করলে সফলতা আসবেই, ইনশাআল্লাহ্।
মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল।
অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, ইকামতে দ্বীন বা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের কথা বলবেন, সমাজকে সকল প্রকার কুলুষতামুক্ত করতে চাইবেন এবং রাষ্ট্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ইসলামের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবেন—ঠিক তখনই অশুভ শক্তির কুদৃষ্টি আপনার ওপর পড়বে। আপনার ওপর নেমে আসবে জুলুম, অত্যাচার ও নানামুখী নির্যাতন। আজকের যুগে শোষক ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী শুধু সরাসরি নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয় না, তারা চালায় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। মূল আদর্শের সাথে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা কর্মীদের নৈতিকতা ও চরিত্র নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তোলে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই সত্যকে উপলব্ধি করে পথ চলছে। সমস্ত মিথ্যা অপপ্রচার, আইনি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতনকে ধৈর্য ও সাহসের সাথে মোকাবিলা করে জামায়াত আজ দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। ​সকল চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে, জনগণের অধিকার রক্ষা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জামায়াতে ইসলামী এক দায়িত্বশীল ও প্রধান বিরোধী শক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। অপপ্রচার চালিয়ে সত্যের কণ্ঠকে স্তব্ধ করা যায় না—আজকের বাস্তবতা তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
বরিশাল মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দারসুল কুরআন পেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরিশাল জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার এবং মহানগরী শাখার ষাম্মাসিক রিপোর্ট পেশ করেন সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাহমুদ হোসাইন দুলাল, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান ও তারিকুল ইসলাম, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, মাওলানা হাবিবুর রহমান, আব্দুস সত্তার, শামীম কবির, মাহফুজুর রহমান আমিন, মাওলানা শফিউল্লাহ তালুকদার, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, কোতোয়ালি উত্তর থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন, কাউনিয়া থানা আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবসায়ী বিভাগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার, আইনজীবী বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের শহীদ, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা সোহরাব হোসাইন, ব্যাংকার্স বিভাগের সভাপতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।