বরফ সংকটে মহিপুর-আলীপুর মৎস্যকেন্দ্র

আগস্ট ১৪ ২০২৬, ২২:২৩

মহিপুর প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে তীব্র বরফ সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বরফ না থাকায় সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না শত শত জেলে। এতে মৎস্য ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থায়ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বরফের সংকটে পাঁচ শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে আটকা পড়ে আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বরফ উৎপাদনের কাঁচামাল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বরফ না থাকায় অনেকে সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। আবার সাগর থেকে মাছ নিয়ে ফিরলেও পর্যাপ্ত বরফের অভাবে মাছ সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফয়সাল আইস প্ল্যান্টের পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বরফের অভাবে জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। বিদ্যুৎ না থাকলে বরফ উৎপাদন সম্ভব হয় না। বরফের সংকটের কারণে মাছ ব্যবসায়ও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
সাগরকন্যা আইস প্ল্যান্টের ম্যানেজার জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে বরফ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বরফ না পেলে জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারেন না। ফলে মাছের সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বরফের সংকট চললে মাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ট্রলার মালিক রেজাউল মাতুব্বর বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে বরফের জন্য অপেক্ষা করেও অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। মাছ ধরতে না পারায় জেলেদের পাশাপাশি ট্রলার মালিকেরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ট্রলার মালিক আইয়ুব দফাদার বলেন, মাছের ব্যবসা এখন অনেকটাই বরফের ওপর নির্ভরশীল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহিপুরে ট্রলার ফিরলেও পর্যাপ্ত বরফ না থাকায় মাছ সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। এতে একেকটি ট্রলারে বড় অঙ্কের লোকসান হচ্ছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বরফ সংকটের কারণে বর্তমানে মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে পাঁচ শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার আটকা পড়েছে। বরফের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও বাড়তে পারে।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব রাজু আহমেদ রাজ বলেন, বরফের অভাবে মৎস্য ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বেচাকেনা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত বরফ সরবরাহ স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, কুয়াকাটা জোনাল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটায় ৩৩ কেভি লাইনের আওতায় দুটি উপকেন্দ্র রয়েছে। পায়রা গ্রিড থেকে এসব উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীর দুটি গ্রিডে মোট ১০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৫৭ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে।
মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে মহিপুর-আলীপুরের মৎস্য ব্যবসা, জেলে ও ট্রলার মালিকদের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে।