পিরোজপুরে আল্লামা সাঈদীর তৃতীয় শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

আগস্ট ১৪ ২০২৬, ২২:১৭

পিরোজপুর প্রতিনিধি : ‎জুমার নামাজের পর দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর তৃতীয় শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে।
‎শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পিরোজপুরে সাঈদী ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে জুমার নামাজ শেষে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিটি পারিবারিকভাবে আয়োজন করা হলেও এতে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা অংশ নেন।
‎এর আগে পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত নেতাকর্মীরা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কবর জিয়ারত করেন। পরে সাঈদী ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত দোয়া-মোনাজাতে তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করা হয় এবং রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং দেশবাসীর শান্তি, কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করা হয়।
‎দোয়া ও মোনাজাতে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মেজো ছেলে ও আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শামীম সাঈদী, সেজো ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পিরোজপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুর রব, জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং পরিবারের সদস্যরা।
‎পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতি বছর ১৪ আগস্ট তাঁর শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া-মোনাজাত ও কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা হয়। এবারও কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিবর্তে পারিবারিকভাবে ধর্মীয় পরিবেশে তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
‎আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পিরোজপুর-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ধর্মীয় বক্তা ও আন্তর্জাতিক ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ছিল। এজন্য তাকে কোরআনের পাখি বলে অভিহিত করা হয়।
‎কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্রে সে সময় তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
‎মৃত্যুর পরদিন ১৫ আগস্ট পিরোজপুরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁকে তাঁর বড় ছেলে রফিক সাঈদীর কবরের পাশে দাফন করা হয়।
‎তাঁর মৃত্যুর তিন বছর পূর্তিতে শুক্রবার পিরোজপুরে আয়োজিত দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেওয়া স্বজন ও নেতাকর্মীরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের জন্য শান্তি ও কল্যাণের দোয়া করেন।