বরিশালে মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ
জুলাই ১২ ২০২৬, ১৮:১৪
স্টাফ রিপোর্টার : বরিশালে একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাদের পারিবারিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, জাল কাগজপত্র তৈরি, সন্ত্রাসী হামলা, ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে মব ভায়োলেন্স সৃষ্টি এবং নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেছেন আফসানা আহাম্মেদ। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মসজিদের সেক্রেটারি ও ইমাম মাওলানা জাকারিয়া।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন আফসানা আহাম্মেদ। এ সময় তার মা ও খালা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আফসানা আহাম্মেদ বলেন, তার বাবা মরহুম অলিউদ্দিন আহাম্মদ জীবদ্দশায় কাশীপুর বাজারসংলগ্ন দাদা মরহুম ছাবের আহাম্মদের দানকৃত জমিতে তিনতলা বিশিষ্ট ওয়াজেদিয়া জামে মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মুতাওয়ালির দায়িত্ব পালন করেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে মসজিদের বর্তমান সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়ার মাধ্যমে জামায়াতের পরিচয় ব্যবহারকারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে অর্জিত বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ২০১২ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর আগের মসজিদ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকেই তাদের পরিবারকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে জাল কাগজপত্র তৈরি, সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু হয়। এ ঘটনায় তারা আদালতে মামলা করে রায়ও পেয়েছেন বলে জানান।
আফসানা অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে মসজিদের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। মসজিদের অনিয়ম, আয়-ব্যয়ের অস্বচ্ছতা ও উন্নয়ন না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ১৪ বছর ধরে মসজিদের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। অথচ মসজিদ পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের ব্যক্তিগত সম্পদ, জমি, বাড়ি, গাড়ি ও বিদেশ যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), আয়কর বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি মসজিদের নাম ব্যবহার করে সংগঠিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মসজিদের সেক্রেটারি ও ইমাম মাওলানা জাকারিয়া বলেন, আফসানা আহাম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের একটি স্টল দখল করে রেখেছেন। ওই স্টলের প্রায় এক লাখ টাকার বেশি ভাড়া বকেয়া রয়েছে। বকেয়া ভাড়া পরিশোধের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা বিষয়টি সমাধান করেননি।
তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ৩০ কোটি টাকার সম্পদের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঢাকায় যে ফ্ল্যাটের কথা বলা হয়েছে, সেটি আমার শ্বশুরের। এছাড়া আমি বিভিন্ন বৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে সোনা বা অন্য কোনো পণ্য আনার অভিযোগও ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও বানোয়াট।”
তবে অভিযোগকারী আফসানা আহমেদ বলেন, মসজিদের সেক্রেটারি জাকারিয়া মিথ্যাচার করছেন। তিনি চাদাঁবাজি ছাড়া আর কিছুই করছেন না।










































