বরিশালের নতুন সিভিল সার্জনের অপসারণ দাবিতে কক্ষে তালা
জুলাই ২৬ ২০২৬, ২২:৪৫
স্টাফ রিপোর্টার : বরিশালের নবনিযুক্ত জেলা সিভিল সার্জন মো. মনিরুজ্জামানের অপসারণ দাবিতে আজ রোববার তাঁর কক্ষে তালা দিয়েছেন একদল ছাত্র। তাঁদের ভাষ্য, মনিরুজ্জামান কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের আমলের সুবিধাভোগী ছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেন। তাঁকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না। তালা দেওয়ার সময়ে সিভিল সার্জন তাঁর দপ্তরে ছিলেন না।
এ ঘটনার নেতৃত্ব দেন ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন। এর আগে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া এস এম মনিরুজ্জামানকে ড্যাবের একাংশ বাধা দিয়ে তাঁর কার্যালয় থেকে বের করে দিয়েছিল। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে মনিরুজ্জামানকে বরিশালের সিভিল সার্জন পদে পদায়ন করা হয়।
২০২২ সাল থেকে মনিরুজ্জামান গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছিলেন। গত বছর তাঁকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে অধিদপ্তরের কেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়। মনিরুজ্জামানকে বরিশালের সিভিল সার্জন পদে পদায়নের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সঙ্গে সম্পর্কে রেখে চলা, তৎকালীন এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে ফুল দেওয়াসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিভিল সার্জনের কক্ষে তালা দেওয়ার নেতৃত্ব দেওয়া সাব্বির হোসেন বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই, বিতর্কমুক্ত ও সৎ কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।’
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবণ্য আক্তার বলেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে জনস্বার্থে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। এ ব্যাপারে নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন মনিরুজ্জামান জানান, তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন।
গৌরনদীর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থাকাকালে পদের স্বার্থে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় এমপি হাসানাত আবদুল্লাহর কাছে যেতে হয়েছে। তাঁকে ফুল দিয়েছেন। সেটা তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে করেননি। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার বরিশালের নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। বিদায়ী সিভিল সার্জন তাঁকে আজ দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি দায়িত্ব না দিয়ে ছুটি নিয়ে ঢাকায় চলে গেছেন।









































