বিষধর সাপের কামড়ে নিভল অসহায় জেলে বাবলুর জীবন প্রদীপ
জুলাই ২৬ ২০২৬, ২২:৫৭
দৌলতখান প্রতিনিধি : দৌলতখানর ভোলায় জীবনযুদ্ধের তাগিদে উত্তাল মেঘনার বুকে নেমেছিলেন মাছ শিকার করতে। কিন্তু এক বিষধর সাপের কামড় কেড়ে নিল তরুণ জেলে বাবলুর (৩০) সব স্বপ্ন। আট দিনের দীর্ঘ লড়াই আর অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসার পথ বন্ধ হয়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন তিনি।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নিহত বাবলু ওই এলাকার কেরামত আলী বাড়ির মৃত আহমদ আলীর ছেলে। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে চরম অন্ধকার। বাবলুর স্ত্রী, দুই অবুঝ সন্তান ও স্বজনদের হৃদয়বিদারক আহাজারিতে পুরো সৈয়দপুর ইউনিয়নের আকাশ-বাতাস এখন ভারী হয়ে উঠেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মেঘনা নদী থেকে মাছ শিকার শেষে তীরে ফিরছিলেন বাবলু। নদীর তীরবর্তী বিএনপি বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি চিৎকার করে উঠলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে বাবলুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ভোলা জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে সাপের বিষ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় পরবর্তীতে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিষের প্রভাবে বাবলুর আক্রান্ত পা এবং কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ঢাকা মেডিকেলে কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু মেঘনায় মাছ ধরে যার কোনোমতে দিন চলত, সেই জেলে পরিবারের পক্ষে ঢাকা শহরের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অর্থাভাবে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে বাধ্য হয়ে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে পরিবার। বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রবিবার বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনা উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবার বেহাল দশা এবং সাপের কামড়ের চিকিৎসায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় দৌলতখানে প্রায়ই সাপের উপদ্রব দেখা যায়। তবে উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম, আইসিইউ ও সাপের কামড়ের বিশেষায়িত আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের একের পর এক জেলা সদর বা ঢাকায় দৌড়াতে হয়। আর পথেই বা উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে বাবলুর মতো সাধারণ মানুষের প্রাণ ঝরে যায়।
নিহত বাবলুর অবুঝ দুই সন্তান ও অসহায় স্ত্রীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। স্থানীয় সচেতন মহল মানবিক খাতিরে এই এতিম পরিবারটিকে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।









































