#ড্রেনেজ সংকটে জলাবদ্ধতা #দুর্ভোগে পাঁচ শতাধিক পরিবার #বৃষ্টি কমলেই কাজ শুরুর আশ্বাস প্রশাসকের

২৫ বছরেও বদলায়নি বরিশাল নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডবাসীর ভাগ্য

আগস্ট ০৩ ২০২৬, ২৩:১৯

ফাহিম ফিরোজ : বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার প্রায় আড়াই দশক পার হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, ভাঙাচোরা সড়ক এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বছরের পর বছর মানবেতর জীবনযাপন করছেন এলাকার বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যায়, পানি ঢুকে পড়ে বসতঘরে। শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কর্মজীবীদের চলাচল এবং জরুরি সেবা গ্রহণ—সবকিছুই হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের দাবি-দাওয়া থাকলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডটির প্রধান সড়ক আমির কুটির জামে মসজিদ সড়ক এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় সব শাখা সড়কই ভাঙাচোরা। প্রায় ৮০০ ফুট দীর্ঘ এই সড়কে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বছরের অধিকাংশ সময়ই পানি জমে থাকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা জলাবদ্ধতায় ডুবে গিয়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। ফলে সড়কের পানি বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানির কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, বাড়ছে মশার উপদ্রব এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

জানা গেছে, ২০০২ সালে বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর (প্রয়াত) জাকির হোসেন জেলাল টানা চারবার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে আমির কুটির এলাকায় একটি ছোট ড্রেন নির্মাণ করেছিলেন। তবে সেটির প্রস্থ ছিল মাত্র দেড় ফুট এবং গভীরতা দুই ফুট। নির্মাণের পর থেকে আর কোনো সংস্কার বা সম্প্রসারণ হয়নি। ফলে জনসংখ্যা ও বসতি বাড়লেও ড্রেনটি এখন আর প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

২০২৩ সালের নির্বাচনে লিয়াকত হোসেন খান লাবু কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেও মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ওয়ার্ডটি কার্যত জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর থেকে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে যায়।

বর্তমানে আমির কুটির এলাকায় পাঁচ শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও টেকসই সড়ক না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।

আমির কুটির এলাকার বাসিন্দা আলী আজম বলেন, “সারা বছরই রাস্তা পানির নিচে থাকে। এ কারণে এখন ভাড়াটিয়ারাও আসতে চান না। রাস্তা উঁচু করে ড্রেন নির্মাণ করলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, “বছরের পর বছর ধরে একই কষ্ট ভোগ করছি। জনপ্রতিনিধি বদলেছে, কিন্তু আমাদের ভাগ্য বদলায়নি। দ্রুত ড্রেন ও সড়ক নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগের শেষ হবে না।”

বিজিবি সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, “বেকারি রোড আমির কুটির সড়কের একটি শাখা সড়ক। এখানে সব সময় পানি জমে থাকে। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ প্রয়োজন।”
ভাড়াটিয়া বাসিন্দা আব্দুল রশিদ আকন বলেন, “ড্রেন ও রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে বছরের প্রায় সব সময় ঘরবন্দি থাকতে হয়। আমরা শুধু জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চাই।”

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “১৫ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়ক ও ড্রেনের সমস্যার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে হরিজন কলোনির ড্রেন ও সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্যান্য সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজও শুরু হবে। খুব শিগগিরই এসব প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করা হবে।”

দীর্ঘদিনের অবহেলায় নগরীর অন্যতম জনবহুল এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এখন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চান। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সড়ক সংস্কার করা হলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে এবং নাগরিক দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।