তিন জেলার দায়িত্বে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী
আগস্ট ২৭ ২০২৬, ২৩:২৮
নেছারাবাদ প্রতিনিধি : দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের হুইপকে দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল, ঝালকাঠি ও ভোলা জেলার দ্বায়িত্ব পেয়েছেন পিরোজপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার নিজস্ব ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।
সরকারের ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করেছে, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তা লুটপাট করা হয়েছে। লুট করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদক, সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তা-জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূলকে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্তরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। এর মধ্যে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনের বিষয়ও রয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাদের থাকবে।
প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালিবিধির সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় মন্ত্রিসভায় বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০০৩ সালের একটি রিট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায়ের কথাও উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।
তবে এ দায়িত্ব পালনের ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোনো সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার নিজস্ব আইনগত ক্ষমতা খর্ব হবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।









































