সহকারী শিক্ষিকা রিপা খানমের বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক মামলা
নভেম্বর ২৬ ২০২৫, ২২:৫৯
স্টাফ রিপোর্টার : বরিশালে চেক প্রতারণা অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে ৪০ নং চর হোগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রিপা খানমের বিরুদ্ধে। পৃথক তিনটি প্রতিষ্ঠানের করা এন.আই. এ্যাক্টের তিন মামলার মধ্যে একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। যদিও ২৫ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছেন ওই শিক্ষিকা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, রিপা খানম ও তার স্বামী মোঃ এনায়েত হোসেন লোকমান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে টাকা ধার নেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় দেয়া চেক ব্যাংকে জমা দিলে ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ থাকায় চেকগুলো ডিজঅনার হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতারণার অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।
প্রথম মামলা: দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের বরিশাল শাখার সিনিয়র বিনিয়োগ কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, রিপা খানম তার স্বামী এনায়েত হোসেন লোকমানের ব্যবসায়িক বিনিয়োগের জামিনদার হিসেবে ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণে সম্মতি দেন। কিন্তু পরিশোধ না করে আত্মগোপন করেন লোকমান।
ব্যাংক বহুবার তাগাদা দিলে রিপা খানম ২ লাখ ১০ হাজার টাকার একটি পূবালী ব্যাংক, হাসপাতাল রোড শাখার একটি চেক প্রদান করেন। ওই চেক ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে প্রদান করেন। কিন্তু ৬ ফেব্রুয়ারি চেকটি অপর্যাপ্ত তহবিল হিসেবে ডিজঅনার হয়। পরদিন ৭ ফেব্রুয়ারি লিগ্যাল নোটিশ পেলেও তিনি অর্থ পরিশোধ করেননি। ব্যাংক দাবি করছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলা: বুরো বাংলাদেশের চরবাড়িয়া শাখার ব্যবস্থাপক কানাই চন্দ্র পাল বাদী হয়ে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রিপা খানম ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর বুরো বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানের মোট পাওনা দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা।
পরে ১৭ জুন রিপা খানম জনতা ব্যাংক, চকবাজার শাখারিএকটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু ১৩ জুলাই চেকটি ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে ১১ আগস্ট লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করলেও তিনি টাকা পরিশোধ করেননি। মামলা সূত্রে এটি প্রতারণামূলক চেক প্রদান ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
তৃতীয় মামলা: তৃতীয় মামলাটি দায়ের করেন বরিশালের ব্যবসায়ী মোঃ মাইনুল ইসলাম স্বপন। তিনি অভিযোগ করেন, পরিচয়ের সূত্রে রিপা খানম ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তার বাসায় বসে ৬ লাখ টাকা নেন এবং ১৫ জুলাই পূবালী ব্যাংক, হাসপাতাল রোড শাখার একটি চেক প্রদান করেন।
৭ সেপ্টেম্বর চেকটি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, বরিশাল শাখায় জমা দিলে ৮ সেপ্টেম্বর চেকটি ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হলেও আসামী টাকা ফেরত দেননি।
এদিকে একের পর এক প্রতারণা মামলা হলেও শিক্ষক রিপা খানমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ফলে দিন দিন প্রতারণার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।










































