ভোটাধিকার হাইজ্যাক করতে দেয়া যাবে না : তারেক রহমান
ফেব্রুয়ারি ০৪ ২০২৬, ১৯:০৬
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৫ বছরে ভোটাধিকার লঙ্ঘনের কারণে দেশের জনগণ নিপীড়ন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা নিজেদের দেশের মালিক মনে করতো, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখন জনগণই দেশের প্রকৃত ক্ষমতার উৎস। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী দেশ পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।”
বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টায় বরিশালের বেলস পার্কে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, একটি দল গুপ্ত পরিচয়ে পরিচিত। এই গুপ্তরা এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভাব হয়েছে দেশের মানুষের কাছে। স্বৈরাচারের মতোই গুপ্তরা এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে। যাদের কাছে দেশের মা-বোনরা নিরাপদ নয়।
তারেক রহমান বলেন, ‘গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। কোন পর্যায়ের মানুষ তারা, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, মানুষকে কিভাবে তারা ট্রিট করছে, তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ের তা বেরিয়ে এসেছে। এরা নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্য কি দুর্বিষহ জীবন নেমে আসবে, তা বোঝা যাবে। তাই গুপ্তদের উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে তারা প্রতিবারই একসঙ্গে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা হলো মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। ৭১, ৮৬, ৯৬সহ বিগত ১৫ বছর তাদের সঙ্গে ছিলেন তারা।’
তিনি গুপ্তদের সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের আগে অনৈতিক কাজ করলে কেউ সৎ শাসন দিতে পারবেনা। ভোটের দিনে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তা জনগণের শক্তিতেই ব্যর্থ হবে। বোটাধিকার হাইজ্যাক করতে দেয়া যাবে না।
তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বলেন, “শহীদদের রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র পুনর্গঠন করতে হবে। উন্নয়ন ও গণতন্ত্র একসঙ্গে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং এতে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি সবাইকে সচেতনভাবে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান।
নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের ঘরে বন্দি রেখে দেশ এগোতে পারে না। নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ইসলামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন কর্মজীবী নারী। তিনি নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরেন।
বরিশালের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হিমাগার স্থাপন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে বীজ ও সার বিতরণ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দেন তারেক রহমান। ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পকারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি। এছাড়া বরিশাল নদীমাতৃক বিভাগ হওয়ায় এখানে প্রধান সমস্যা হচ্ছে নদী ভাঙ্গন। তিনি নির্বাচিত হলে নদী ভাঙ্গনরোধে কাজ করবেন, নদীর তীরে বেরিবাদ নির্মাণ করবেন, ভোলা-বরিশাল সেতু করবেন, ভোলায় মেডিকেল কলেজ করবেন, বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আধুনিকায়ন করা হবে বলে জানান।
বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. বিলকিস জাহান শিরিন। তিনি বলেন, এই বরিশাল জিয়াউর রহমানের বরিশাল। এই বরিশাল খালেদা জিয়ার বরিশাল। এই বরিশাল তারেক রহমানের বরিশাল। এই বরিশাল ধানের শীষের বরিশাল। এই বরিশাল ধানের শীষের ঘাটি। ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে বরিশালের আসনগুলো দলের চেয়ারম্যানকে উপহার দেয়ার কথা বলেন।
গণ অধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি নরুল হক নুরু বলেন, কোন উগ্রপন্থী বাহীনির হাতে ক্ষমতা চলে না যায়। সেই জন্য দেশের স্বর্থে ধানের শীষে ভোট দিন।
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান- জুলাই গণ অভ্যুথানের নায়ক আপসহীন নেতা তারেক রহমান। তার হাত ধরেই আগামীর বাংলাদেশ হবে স্বপ্নের বাংলাদেশ। এ সময় তিনি নদী ভাঙ্গনের কথা উল্লেখ করে বলেন, নদী ভাঙনে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে যাচ্ছে। বাবার কবর, মায়ের কবর ভোঙ্গে যাচ্ছে। তবে জোয়ার উঠে গেছে ধানের শীষের বিজয় হওয়ার। তারেক রহমানের বিজয় করার। নদী ভাঙ্গনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তোলেন তিনি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সারাদেশে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা দেখে বোঝা যাচ্ছে তারেক রহমান ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন। এই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের ভোলাবাসীর দাবী ভোলা-বরিশাল সেতু ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করে দিবেন।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব: হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, একটি দল বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে। স্বাধীনতা নিয়ে উল্টা পাল্টা কথা বলছেন। স্বাধীনতা নিয়ে মিথ্যাচার বন্ধ করুন। তারুণ্যের অহংকার তারুক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ। আমরা সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চাই।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্যসেলিমা রহমান বলেন, ১৭ বছর পর আপনাদের চেয়ারম্যান আপনাদের কাছে এসেছে। যার প্রতিক্ষার জন্য আপনারা জেল খেটেছেন, হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। আজ সেই চেয়ারম্যান বরিশালে। তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ১২ তারিখ সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন।
এরআগে দীর্ঘ দুই দশক পর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন তারেক রহমান। পরে গাড়িবহর নিয়ে তিনি জনসভার মঞ্চে পৌঁছান। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। নির্বাচনের জনসভায় বরিশাল বিভাগের ২১ টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও শরিক দলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকাল থেকেই বেলস পার্ক ও আশপাশের এলাকা জনসভাস্থল জন সমুদ্রে পরিণত হয়। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢলে জনসভাস্থল রূপ নেয় এক বিশাল রাজনৈতিক উৎসবে। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বেলস পার্ক মাঠ।










































