গ্রামেই মিলছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা, দক্ষিণ জয়নগরে ১৫০ রোগীকে ফ্রি চিকিৎসা
জুলাই ২৯ ২০২৬, ১৮:৩৯
দৌলতখান প্রতিনিধি : গ্রামাঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা এখনও অনেক মানুষের নাগালের বাইরে। অর্থনৈতিক সংকট, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাবে বহু মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমন বাস্তবতায় ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থা।
সংস্থাটির উদ্যোগে আহম্মদের হাট আলিম মাদ্রাসা ও দক্ষিণ-পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথক দুটি স্থানে ক্যাম্প পরিচালিত হয়। দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হাসান তারেক হাওলাদারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে মোট ১৫০ জন রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. মুমতাহিনা—এমবিবিএস (রাজশাহী), ডিএমইউ (আল্ট্রাসনোগ্রাফি), সিসিডি (ডায়াবেটোলজি, বারডেম, ঢাকা), গাইনি ও প্রসূতি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (মুগদা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা) এবং বর্তমানে ফরাজি হাসপাতাল, ঢাকার সিনিয়র কনসালটেন্ট সনোলজিস্ট।
ক্যাম্পে আগত রোগীদের মধ্যে নারী, প্রবীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পান। প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ সেবন এবং পরবর্তী চিকিৎসা সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রহিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর। অর্থাভাবে দীর্ঘদিন ভালো চিকিৎসা করাতে পারিনি। আজ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ পেয়েছি। এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে আমাদের মতো অসহায় মানুষের অনেক উপকার হবে।
দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. হাসান তারেক হাওলাদার বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এমন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত এমন মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করা গেলে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমবে, অন্যদিকে গুরুতর রোগের ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।










































