ভোলায় ক্যাশিয়ার ফারুককে নিয়ে তোলপাড়
৭০০ টাকার চাকরি থেকে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক!
জুন ০১ ২০২৬, ১৯:১৮
ভোলা প্রতিনিধি : মাত্র ৭০০ টাকা বেসিক বেতনে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলেন ওমর ফারুক। চাকরিজীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি এখন শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক—এমন অভিযোগ ঘিরে ভোলা জেলাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মজীবন শুরু করেন তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ওমর ফারুক। পরে নানা প্রক্রিয়ায় তিনি ক্যাশিয়ার পদে দায়িত্ব পান। বর্তমানে অবসরের প্রাক্কালে থাকা এ কর্মকর্তা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের দত্তকান্দি ও কাজিকান্দি এলাকায় তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, বাগান ও খামার রয়েছে। এছাড়া তজুমদ্দিন উত্তর বাজারে বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার মিরপুর, নারায়ণগঞ্জের ফুলতলা, চরফ্যাশন সদর এবং দক্ষিণ আইচা এলাকাতেও তার নামে বা স্বজনদের নামে মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু পরিবারের জমি বিভিন্ন কৌশলে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন ফারুক। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ফারুকের প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ফারুকের পরিবারের নামে একটি বড় মুরগির খামারসহ একাধিক বাণিজ্যিক উদ্যোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন সরকারি হাসপাতালের ক্যাশিয়ারের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তার দৃশ্যমান সম্পদের পরিমাণের বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছিলেন। পরে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তাকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। সেখানেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরের মাছ চুরির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার পরও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তার নাম সামনে আসে বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন।
এ বিষয়ে ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মুনিরুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভোলার সচেতন নাগরিকরা।









































