আমতলীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক র্যালি ও আলোচনা সভা
জুন ০৬ ২০২৬, ১৯:৩৩
oppo_2
আমতলী প্রতিনিধি : ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার বিস্তার রোধে করণীয় সম্পর্কে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি আমতলী পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়। র্যালিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যুব সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র্যালি শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জাফর আরিফ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হিমেল পাল। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু বর্তমানে দেশের অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা। গত বছর বরগুনা জেলা ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে দেশের অন্যতম হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।
সে সময় আমি বরগুনায় কর্মরত ছিলাম এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।” সভাপতির বক্তব্যে ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়।
এ জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। প্রত্যেক পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করতে হবে এবং কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। সচেতনতাই পারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে।” অনুষ্ঠানে আমতলী পৌর প্রশাসক জানান, পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনাশক স্প্রে ও ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি পৌরবাসীকে নিজ নিজ বাসা-বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী সাংবাদিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. জাকির হোসেন ও সাংবাদিক আবু জিহাদ। এছাড়াও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, যুব ফোরামের সদস্য, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সবাই সচেতন হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সভা শেষে উপস্থিত সবাই ডেঙ্গুমুক্ত আমতলী গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।









































