আদালত চত্তরে মামলার বাদীর পরিবারকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ
জুলাই ১৯ ২০২৬, ২৩:১৭
স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত (ডিগ্রি কোর্ট) চত্বরের ভেতরেই এক চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় নিজের স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার মামলা করে উজিরপুরের প্রবাসী নাফিস জয়।
১৫ জুলাই ধার্য তারিখে বরিশাল আদালতে বাদি নাফিস ও তার পরিবারের লোকজন আদালতে প্রবেশ করার সাথে সাথে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে স্ত্রীর পক্ষ। হামলায় মামলার বাদী প্রবাসী মো: নাফিস জয় ও তার মা-বাবাসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের মোবাইল ক্যামেরায় ধারণকৃত হামলার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে তা দেশজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।
পারিবারিক ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, মো: নাফিস জয় তার স্ত্রী খাদিজা খন্দকারকে নিজের কাছে ফিরে পাওয়ার আইনি লড়াই হিসেবে বরিশাল বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
গত ১৫ই জুলাই ছিল উক্ত মামলার পূর্বনির্ধারিত ধার্য তারিখ। ওইদিন আদালতে হাজির হতে নাফিস জয়ের সাথে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার মা আসমা, বাবা হাফিজুল মোল্লা এবং ফুফু মেরিনা বেগম। অপরদিকে, মামলার প্রধান বিবাদী নাফিসের স্ত্রী খাদিজা খন্দকার আদালতে অনুপস্থিত থাকলেও, অপর তিন বিবাদী—নাফিসের ভাইরা সুমন তালুকদার, জ্যেষ্ঠ (জেঠস) আয়েশা তালুকদার এবং শাশুড়ি মুক্তা আক্তার আদালতে হাজিরা দিতে আসেন।
আদালতে হাজিরা প্রক্রিয়া চলাকালীন ও এর পর পরই বিবাদী সুমন তালুকদার ও তার সাথে থাকা লোকজন অতর্কিতভাবে বাদী নাফিস জয়ের ওপর চড়াও হয়। লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে নাফিসকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা তার মা আসমা, বাবা হাফিজুল মোল্লা এবং ফুফু মেরিনা বেগমের ওপরও নৃশংস হামলা চালানো হয়।
সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি পিটুনিতে বাদী নাফিসের মা আসমা বেগম গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হন। ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার সময় বিবাদী পক্ষ বাদীদের ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, নগদ ৪ লাখ টাকা এবং দুটি দামী স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আদালত চত্বরে প্রকাশ্য মারধর ও লুটপাটের এই রোমহর্ষক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আইনি অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সার্বিক বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন জানান “আদালত চত্বরে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।









































