অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে কুয়াকাটার ঐতিহ্যবাহী খাস পুকুর

জুন ০৪ ২০২৬, ১৯:০০

মহিপুর প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পর্যটন নগরী কুয়াকাটার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় ‘খাস পুকুর’ দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভার একমাত্র সরকারি মিঠাপানির এই পুকুরটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ‘খাস পুকুর’ নামে পরিচিত।
সমুদ্রবেষ্টিত কুয়াকাটায় মিঠাপানির উৎস অত্যন্ত সীমিত। ফলে পুকুরটি শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যই নয়, প্রতিদিন আগত হাজারো পর্যটকের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রসৈকতে গোসল শেষে শরীরের লবণাক্ততা দূর করতে অসংখ্য পর্যটক এই পুকুরের পানি ব্যবহার করেন। অনেকের কাছে এটি নিরাপদ গোসল ও সাঁতারের একটি নির্ভরযোগ্য স্থান হিসেবেও পরিচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অপরিকল্পিত ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণে পুকুরটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ ক্রমেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একসময় কুয়াকাটার ঐতিহ্য ও প্রয়োজনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই জলাশয় এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে তার স্বকীয়তা ও আকর্ষণ।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, খাস পুকুর শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি কুয়াকাটার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং পর্যটন সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যথাযথ সংস্কার, সংরক্ষণ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই পুকুরকে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে তোলা সম্ভব।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত পুকুরটির সংস্কার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং চারপাশের পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে কুয়াকাটার এই ঐতিহ্যবাহী সম্পদ একদিন শুধুই স্মৃতির অংশ হয়ে যাবে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জসিম উদ্দিন লিটন বলেন, “সমুদ্রে গোসল শেষে লবণাক্ততা দূর করতে মিঠা পানির পুকুরের খোঁজে খাস পুকুরে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে আছে এবং পুকুরের ঘাটটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”
কুয়াকাটা প্রেসক্লাব ও টোয়াকের সভাপতি মো. রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন শিল্পের স্বার্থে খাস পুকুর রক্ষায় এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক নজরদারি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, “গত মে মাসে খাস পুকুরের টপোগ্রাফিক সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। ‘CTCRP (Coastal Towns Climate Resilient Project)’ প্রকল্পের আওতায় সার্ভে রিপোর্টসহ একটি উন্নয়ন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পুকুরটির চারপাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে, ফোয়ারা, বডি ওয়েট এক্সারসাইজ সরঞ্জাম, সবুজ বেষ্টনীসহ একটি পর্যটকবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব স্পট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পিডি মহোদয় এবং এডিবির প্রতিনিধিরাও এ প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।”
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খাস পুকুর তার হারানো সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য ফিরে পাবে এবং কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে।