বাকেরগঞ্জে রহস্যজনক বোমা বিস্ফোরণ, একই পরিবারের ৩ জন দ্বগ্ধ

আগস্ট ০৩ ২০২৬, ২২:৪৩

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশালের বাকেরগঞ্জে বসতবাড়ির উঠানে রাখা একটি পরিত্যক্ত ব্যাগে রহস্যজনক বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধাল মৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণে আহতরা হলেন -ঐ এলাকার দিনমজুর শাহে আলমের স্ত্রী হানুফা বেগম (৪০), তার মেয়ে ইতি (১৯) এবং নাতি ফাহিম (১৪)। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ঘরের বাইরে এসে উঠানের এক কোণে রাখা একটি ব্যাগ থেকে অনবরত অদ্ভুত শব্দ শুনতে পান ইতি। শব্দের উৎস জানতে ব্যাগটির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি কাদায় পা পিছলে পড়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইতি জানান, তিনি কাদা থেকে ওঠার চেষ্টা করার মুহূর্তেই ব্যাগটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ ও ধোঁয়া দেখে তাকে বাঁচাতে ঘর থেকে তার মা হানুফা বেগম ও ফাহিম ছুটে এলে তারাও গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণ ফুঁড়ে যাওয়া অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে দ্রুত বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্টার আলমগীর হোসেন জানান, আহতদের শরীরের আনুমানিক ১৫ শতাংশ দগ্ধ (বার্ন) হয়েছে। এ ধরনের বার্নের ক্ষেত্রে আমরা রোগীদের ফ্লোইড বা স্যালাইন দিয়ে স্ট্যাবিলাইজ করার চেষ্টা করি এবং সংক্রমণ এড়াতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করি।
আপাতত রোগীদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পরবর্তী ঝুঁকি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।তিনি আরও সতর্ক করে জানান, হাসপাতালে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ইনফেকশনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা।
ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। বিস্ফোরকটি কোনো পরিকল্পিত নাশকতার অংশ নাকি সাধারণ ককটেল,পটকা জাতীয় কিছু ছিল—তা নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট ধরন ও উপাদান সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। আমরা ঢাকার বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা আজই ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা চিহ্নিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।