বানারীপাড়ায় হলি কেয়ার হাসপাতালকে জরিমানা ও সিলগালা

আগস্ট ০৩ ২০২৬, ২৩:০৫

বানারীপাড়া প্রতিনিধি : বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গড়ে ওঠা হলি কেয়ার হাসপাতালের লাইসেন্স না থাকায় জরিমানা করাসহ সিলগালা করার হুশিয়ারী দিয়েছেন বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বায়েজিদুর রহমান।
৩ আগস্ট (সোমবার) সকাল ১১.০০ টায় বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ লুৎফুল আজিজ বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলো পরিদর্শনে গিয়ে হলিকেয়ার হাসপাতাল, ইউনাইটেড ক্লিনিক ও হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে যান। প্রথমে তারা হলি কেয়ার হাসপাতাল গিয়ে তাদের লাইসেন্স দেখতে চাইলে কতৃপক্ষ কোনো কাগজপত্র দেখাতেও  পারে নি। যার কারনে ওই হাসপাতাল কতৃপক্ষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করাসহ ৭ দিনের মধ্যে সঠিক কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে।
৭ দিনের মধ্যে লাইসেন্স সমস্যার সমাধান না করতে পারলে ওই হাসপাতাল সিলগালা করার হুশিয়ারীও দেয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছেন যে,  ওই হাসপাতালে কোনো ল্যাব টেকনোলোজিস্ট,পর্যাপ্ত পরিমান সেবিকা ও ডিউটি ডাক্তার তারা পাননি।এছাড়াও ইউনাইটেড ক্লিনিকের লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারনে ওই ক্লিনিকের কতৃপক্ষকে ২০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
উল্লেখ্য গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যার পরে হলি কেয়ার হাসপাতালে বরিশাল সদর হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. আরমান ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রামের মনি নামে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় অপারেশন থিয়েটারে তার পেট কেটে সন্তান বের না করে পেটে সেলাই দিয়ে তাকে বরিশালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন। পরের দিন বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজের একদল গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জরুরী বোর্ড বসিয়ে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় ওই প্রসূতির অপারেশন সম্পন্ন করেন।
প্রসুতির ভাই জানান বানারীপাড়ার হলি কেয়ার হাসপাতালের ডাক্তারদের ভুলে প্রসূতির শরীরে ৮ ব্যাগ রক্ত  দিতে হয়েছে।যা যোগাড় করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে এবং তারা আর্থিক অভাব অনটনে পড়ে গেছেন। তিনি আরো জানান তার বোনকে বরিশালে নেয়ার পরে ওই রাতে হলি কেয়ার  হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাদের সামান্য খোঁজখবর রেখেছিলেন কিন্তু তারপরে আর প্রসূতির কোনো খোঁজ খবর রাখেননি।তিনি আরো বলেন যে,তার বোন এখনো মুমূর্ষু অবস্থায় আছে এবং বাচ্চার শারিরীক অবস্থাও সুবিধাজনক নয়।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে হলি কেয়ার হাসপাতালে ওই প্রসূতির দায়িত্বহীন অপারেশন নিয়ে নিন্দার জড় উঠেছে। সচেতন পরিবারের সদস্যরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন যার প্রমান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানের সময়ই স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। হাসপাতালটি এখন সম্পূর্ন রোগী শূন্য। হাসপাতাল কতৃপক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে হলি কেয়ার হাসপাতালটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।