সরবরাহ কমে চড়া দাম, বিপাকে সাধারণ ক্রেতা
টানা বর্ষণে বরিশালে সবজির বাজারে আগুন
আগস্ট ০৩ ২০২৬, ২৩:২২
স্টাফ রিপোর্টার : টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে বরিশালে অস্থির হয়ে উঠেছে সবজির বাজার। বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ বেড়েছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
রোববার (২ আগস্ট) সরেজমিনে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড কাঁচাবাজার, বাজার রোড, নতুন বাজার, বাংলা বাজার, নথুল্লাবাদ, চৌমাথা বাজার, লঞ্চঘাট ও সদর রোডসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, টানা বর্ষণের কারণে প্রায় সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমে গেছে। বাজারভেদে দামে সামান্য পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ বাজারেই সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, ছোট করলা ১০০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, শশা ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ১০০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, বেগুন ১৬০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩৪০ টাকা, কুমড়া ৬০ টাকা এবং ধুন্দুল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ প্রতি পিস ৮০ টাকা, কলার মোচা ৬০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, লাউশাক দুই আঁটি ৫০ টাকা এবং কলমিশাক প্রতি আঁটি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহবধূ তাহমিনা বেগম বলেন, “কয়েকদিন আগেও যে সবজিগুলো অনেক কম দামে কিনেছি, এখন সেগুলোর দাম অনেক বেড়ে গেছে। সংসারের বাজেটের সঙ্গে বাজারের হিসাব আর মিলছে না। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম সবজি কিনতে হচ্ছে।”
ক্রেতা ইমন হাওলাদার বলেন, “মাছ-মাংসের দাম আগেই বেশি ছিল। এখন সবজির বাজারেও আগুন। প্রতিদিন নতুন দামে বাজার করতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা খুবই কষ্টের।”
সবজি বিক্রেতা মো. কবির সিকদার বলেন, “টানা বৃষ্টিতে ক্ষেত থেকে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। আড়তেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
আরেক বিক্রেতা রতন খান বলেন, “বর্ষার কারণে অনেক ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম।”
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অনেক সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বেড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং নতুন করে সবজি উত্তোলন শুরু হলে বাজার পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।









































