বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের রিসোর্ট প্রকল্পে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

নভেম্বর ২০ ২০২৫, ১৫:২৪

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কুয়াকাটায় রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্প ও জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্তকে “অবিবেচক ও নগরবাসীর স্বার্থবিরোধী” আখ্যা দিয়ে গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা শাখা প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ইতোমধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

নাগরিক সমস্যা সমাধান ও কুয়াকাটায় বরিশাল সিটির রিসোর্ট নির্মাণ বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে গণসংহতি আন্দোলন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান মিরাজ এবং ছাত্র ফেডারেশন বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম শাকিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে কুয়াকাটায় রিসোর্ট নির্মাণের লক্ষ্যে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে। শুধু তাই নয়, বাজে দলিল তৈরিতে ব্যয় হয়েছে আরও ৫ কোটি টাকা। অথচ বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের মোট দেনা ৩৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঠিকাদারদের পাওনা ৩০০ কোটি, বিদ্যুৎ বিভাগের পাওনা ৬৪ কোটি এবং অবসরপ্রাপ্ত ও চাকুরিচ্যুত নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের পাওনা প্রায় ২০ কোটি টাকা।

গণসংহতি আন্দোলন অভিযোগ করে জানায়, একদিকে সিটি কর্পোরেশনের বেতন বৈষম্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা, ড্রেনেজ সংকট, পয়নিষ্কাশনের অব্যবস্থা, মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে নগরবাসী চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। সেই সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কর্মীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকা তাদেরকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলেছে। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন—“তাদের সেফটি গিয়ারের বরাদ্দ টাকা কোথায় যায়?”

এছাড়া কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এখনও চালু হয়নি এবং নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি এলাকা সামান্য জোয়ারেই পানিতে ডুবে যায়—এসব সমস্যার সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং এটি নগরবাসীর স্বার্থবিরোধী।

রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ১৭ নভেম্বর প্রকল্পের জন্য জমি ক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং আগামী ছয় মাসের জন্য প্রকল্প কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।

সংগঠনের নেতারা সাংবাদিকদের অনুরোধ করে বলেন, “নগরবাসীর ভোগান্তি ও সিটি কর্পোরেশনের বাস্তব সমস্যাগুলো জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য আপনাদের লেখনীই সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।”